ধর্ম অবমাননার অভিযোগে রায়হান জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা

ইসলাম ধর্ম, হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআন নিয়ে বিভিন্ন কুটুক্তি করেছেন মগবাজার এলাকার মো. মো. আবু রায়হান জুয়েল ওরফে রায়হান জুয়েল।

রায়হান জুয়েলের তিতা টিভি নামের ফেসবুক পেইজ এবং ইউটি্টিউব চ্যানেলে কটুক্তি করা হয়। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন রাজধানীর কোতয়ালী থানার মো. আল আমিন নামের এক ব্যক্তি।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), ইসলাম ধর্ম ও পবিত্র কুরআর শরীফ অবমাননার এই মামলা দায়ের করেন মো. আল আমিন। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের পরামর্শে চলতি জুলাই মাসে মেজিস্ট্রেট আদালতে তিনি দায়ের করেছেন।

মামলা বর্ণনায় বলা হয়, মো. আবু রায়হান জুয়েল ওরফে রায়হান জুয়েল তার ফেসবুক (https://www.facebook.com/raihanjewell.bd) দীর্ঘ দিন যাবত বাংলাদেশের প্রধান ধর্ম ইসলামের ওপর আঘাত করে ফেইসবুক পেইজে এবং ইউটিউব চ্যানেলে ইসলামের প্রতি বিভিন্ন ধরনের কুটক্তিপূর্ণ মন্ত্রব্য প্রকাশ কর ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করে আসছেন।

গত ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি আসামী জুয়েল রায়হান ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে— ‘এনালগ ব্যবসায় আল্লাহর আর পোষাই না, তাই তিনিও এখন ডিজিটাল ব্যবসা শুরু করেছেন। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আল্লাহও এগিয়ে যাচ্ছে দেখে বেশ ভালো লাগছে। সুভানাল্লা, মাশাল্লা, মারহাবা’। এই লেখার সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করা হয় যে ছবিতে একটি মোবাইলের এসএমএস দেখানো হয় যেখানে লেখা আছে ‘মহান আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ পেতে ডায়াল করুন *213*717# Tk 2.55/day’।

পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৬ জুন তার ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করেন “এমন নির্ভেজাল সত্য কথা বললেও যখন মুমিনদের অনুভূতিতে লাগে, তখন স্পষ্টভাবেই প্রমানিত হয়ে যায় যে ইসলাম ধর্মটা আসলে এতোটাই কদর্য যে ইভেন মুসলিমরাও সত্য ইসলামকে সহ্য করতে পারে না। তাই, ইসলামকে ভালোবাসার খাতিরে তাদেরকে একটা ‘মনগড়া ইসলাম’ বানাতে হয়।” এই পোস্টের সঙ্গে একটি স্ক্রিনশট দেওয়া হয় যেখানে হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিরুদ্ধে কটূক্তিকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইফুর রেজার লেখা দেখানো হয়, ‘মুহম্মদের পুত্রেরা কার গর্ভে জন্মা নিয়েছিল। সেই নারী কি বিবাহিতা ছিল? না, তার নাম মারিয়া। সে বিবাহিতা ছিল না। বিয়ে না করে অনেক নারীর সাথে সহবাসে তিনি অভ্যস্ত ছিলেন’ ২০২৩ সালের ৩ ফেব্রেয়ারি আসামির ইউটিউভ চ্যানেল তিতা টিভিতে (Tita TV) একটি ভিডিও প্রচার করে (ttps://www.youtube.com/watch?v=ZWB-OKM6zds)। এতে উল্লেখ্য আছে ‘ধর্মগ্রন্থগুলো নর্দমায় ফেলে দিলে কি খুব বেশি ক্ষতি হবে আধুনিক সমাজের?’ শীর্ষক ভিডিওর রাত ১টা ১২ মিনিটে বলা হয়েছে, ‘ধর্মগ্রন্থগুলোতে মধ্যযুগীয় জ্ঞান ছাড়া আর কিছুই নেই। সেই মধ্যযুগের মানুষগুলো যা জানতো, পৃথিবী সম্পর্কে, রিয়েলিটি সম্পর্কে তাদের যা ধারনা ছিলো, সেগুলোই লিখে গেছে এই ধর্মগ্রন্থগুলোতে। এর বাইরে তো তাদের যাওয়া সম্ভব ছিলো না। তারা গুহায় বসে ধ্যান ধারনা করে যেটুক জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছে সেটুক জ্ঞানকে ঈশ্বরের নাম দিয়ে চালিয়ে দিয়েছে।’ এই ভিডিওর পরবর্তী আলোচনায় ‘ধর্মগ্রন্থ’ বলতে যে ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ ‘কোরআন’-কেই বোঝানো হয়েছে তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

২০২৫ সালের ২০ জুন রাত অনুমান ৯টায় বাদির ঠিকানায় বাসায় অবস্থান কালে আসামীর ওই ভিডিও পোষ্টগুলো বাদির মোবাইল ফোনে দৃষ্টি গোচর হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধান ধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে তার ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধামে বিভিন্ন কটুক্তিমূলক বক্তব্য পোস্ট করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করিয়াছে। বিধায় অত্র আসামী দণ্ডবিধির ২৯৫(ক)/২৯৮ ধারায় অপরাধ করিয়াছে।

/এসএ/ ২০/০৭/২৫

Leave a Reply