বঙ্গবন্ধু আমাদের আদর্শিক নেতা: বিচারপতি এ. বি. এম. খায়রুল হক
আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. বি. এম. খায়রুল হক বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের আদর্শিক নেতা।’ ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকে জাতির ইতিহাসের কালো অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (১৬ আগস্ট) আইন কমিশনের উদ্যোগে কমিশনের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. বি. এম. খায়রুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে আইন কমিশনের সদস্য বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ. টি. এম. ফজলে কবীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. বি. এম. খায়রুল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের আদর্শিক নেতা।’ ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকে জাতির ইতিহাসের কালো অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা বিচারকালে তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। বাঙালির জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা বিকাশে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও মাত্র ৯ মাসের ব্যবধানে একটি অনন্য সাধারণ সংবিধান প্রণয়নে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য ও গতিশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে দেশের কল্যাণে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
কমিশনের সদস্য বিচারপতি এ. টি. এম. ফজলে কবীর বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যের স্পিরিট প্রতিটি বাঙালি হৃদয়ে স্থান করে নেয়। ফলে বাঙালিরা তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত হয়।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের অবিসংবাদিত নেতাকে এই বাঙালিরাই হত্যা করেছে, এর চেয়ে বড় লজ্জার বিষয় আর থাকতে পারে না।’
কমিশনের অপর সদস্য বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী তার বক্তব্যে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি আলোকপাত করে সবাইকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করার আহ্বান জানান।
আইন কমিশনের সচিব ড. আতোয়ার রহমান বলেন, ‘১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে মানবতার চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. বি. এম.খায়রুল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
কমিশনের মুখ্য গবেষণা কর্মকর্তা ড. মোরশেদ ইমতিয়াজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাঙালি জনগণকে কীভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং বঙ্গবন্ধুর ভাষণ কীভাবে সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষদের অনুপ্রেরণার পথ দেখায়, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন।
কমিশনের লেজিসলেটিভ ড্রাফটসম্যান আবেদা সুলতানা ‘বঙ্গবন্ধু অভিধান’ থেকে ১৫ আগস্টের বেদনাদায়ক ঘটনার করুণ ইতিহাস পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানে আইন কমিশনের কর্মরত-কর্মচারীরা বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। কমিশনের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর অশেষ অবদান, ত্যাগ, সংগ্রামী জীবন ও সম্মোহনী নেতৃত্বের বিষয়ে আলোকপাত করেন।

